Welcome

আমার সম্পর্কে

ব্যাক্তি জীবনে সেলিম মিয়া নামে আমি পরিচিত। পেশায় পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাহাড়া গ্রামের মধ্যপাড়ায়, মধ্যবিত্ত পরিবার মিয়া বাড়িতে আমার জন্ম। পিতা মৃত কুদ্দুস মিয়া, মাতা মিসেস সুফিয়া কুদ্দুস।

হাতে খড়ি মমতাময়ী মায়ের কাছে। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু, বাহাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর যথাক্রমে পশ্চিম রামপুরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা। বাটিকামারী উচ্চ বিদ্যালয়, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ। সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ খোয়াজপুর, মাদারীপুর। সরকারি বাঙলা কলেজ মীরপুর, ঢাকা।

শৈশব থেকে পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো কবিতা গল্পের বই চোখে পড়লেই; পড়ার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠতাম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠে, রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস পড়তে পড়তে একসময় আমার মনে হয় মানুষ মরে যায়; কেউ কেউ নান্দনিক স্মৃতির নিদর্শন রেখে যায়।

মহান মানুষদের রেখে যাওয়া নান্দনিক স্মৃতি সমূহের মধ্যে অন্যতম স্মৃতি হলো কবি সাহিত্যিকদের লেখা শিক্ষণীয় বই। এই অনুধাবনের পরশ থেকে লেখক হতে ভীষণ ইচ্ছে হয়; মানুষের মাঝে কবি সাহিত্যিক হয়ে বেঁচে থাকার সাধ জাগে। ছাত্র জীবন থেকেই বাস্তবতার মুখোমুখি হই লেখা শুরু করি।

মা জননীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে যোগদান করি। পুলিশ পেশায় এসে পুলিশের শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রেম, বিরহ, পল্লী প্রকৃতি সমাজের নানাবিধ অসঙ্গতি ও ধর্মীয় বিষয়ে নানাবিধ ঘটনা আমাকে আকৃষ্ট করে। আকৃষ্টের যত্নমূলক ভাবনায়, কিছু ঘটনা হৃদয়ে নাড়া দেয়।

হৃদয়ের নাড়া থেকে সাড়া দেয় লেখার আগ্রহ। আগ্রহের আরাধনায় ধরি কলম। লিখি কিছু লিখি। অতঃপর লেখাগুলো হয় কাব্য, নয় গল্প। কিছু ঘটনা প্রবন্ধ, উপন্যাস রূপে রূপ‌ দিতে থাকি। এগুলো ধীরে ধীরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ম্যাগাজিনে, যৌথ গ্রন্থের মাধ্যমে ঢাকা ও পশ্চিম বঙ্গের আগরতলা মেলায় প্রকাশ হতে থাকে।

পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের স্বনামধন্য দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশ হয়। প্রকাশের পরিধি পরিচিতি বৃদ্ধি হওয়ার ফলে একক কাব্য গ্রন্থ প্রকাশের সাহস পাই। লিখি “কুমার নদীর বাঁকে”। ২০১৯ সালে একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়। “কুমার নদীর বাঁকে” কাব্যগ্রন্থ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া পায়।

লেখক আর পাঠকের বন্ধুত্ব যে এত মধুর তা আগে জানতাম না। এ যেন সোনালী সেতু; ধীরে ধীরে ছুঁয়ে যায় দূরতম দ্বীপে। অসংখ্য অজানা অচেনা প্রিয় পাঠক বন্ধু যখন আমার মোবাইল নাম্বর 01715637708 এ ফোন করে কুশল বিনিময় করেন এবং কোন একটা কবিতার নাম ধরে ভাললাগার অনুভূতি জানান, তখন নিজেকে ভীষণ ভালো লাগে।

পাঠকের এ ভালবাসার প্রেক্ষিতে অনেক অজানা তথ্য সংগ্রহ করে মুজিব আদর্শের ঘটনা গুলোকে গবেষণালব্ধ গল্পের গন্ডিতে ধরে রাখি। ধারণ থেকে কিছু কিছু গল্প নিয়ে গল্পগ্রন্থ লিখি। একগুচ্ছ গল্পগ্রন্থের নামকরণ করি, “মুজিব বর্ষে”, মুজিব আদর্শে”। ২০২০ এ চিরদিন প্রকাশনী থেকে “মুজিব বর্ষে, মুজিব আদর্শে” প্রকাশ হয়।

বই প্রেমিক পাঠক সমাজে আশাতীত সাফল্য পায়। যেসকল প্রিয় পাঠক আমার লেখা বই সংগ্রহ করেন, পড়েন, আমাকে ফোন করেন তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা রইলো এবং আপনাদের কাছে আমি চির ঋণী হয়ে থাকি। সুখের গোলা ভরা এই ঋণ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির সুরে বাজায় সুখের বিন।

ঋণের দায়ে দিনে দিনে নতুন নতুন কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস লেখার উদ্দীপনা পেয়ে থাকি অবিরাম। সমাজ ও আইনের বাতায়ন দিয়ে কিছু কিছু ব্যাতিক্রম ঘটনা ঘটে, এমন দশটি ঘটনাকে পুঞ্জীভূত করে দশটি প্রবন্ধ লিখেছি। এ দশটি প্রবন্ধের সম্মিলিত রূপে একটি গ্রন্থ প্রকাশ এবং অসাধারণ প্রেমের পরিণতি নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছি।

যদি বেঁচে থাকি তাহলে প্রকাশ করে যেতে চাই ইনশাল্লাহ। সাহিত্য ও সামাজিক যোগাযোগ বন্ধনে অরাজনৈতিক সংগঠন “বাংলাদেশ কবি পরিষদ” এর কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক মন্ডলীর সদস্য হিসেবে নিয়োজিত আছি। নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। রূপগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক।

মানবতার সেবায় সবসময় মানুষের কল্যানে আসে এমন লেখা প্রকাশ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। পারিবারিক জীবনে এক স্ত্রী তিন সন্তানের সংসার। আমার ছেলে আব্দুল্লাহ আল বাঁধন পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পিএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

এসএসসি গোল্ডেন A+ পেয়েছে। নটরডেম কলেজ ঢাকা থেকে এইচএসসি গোল্ডেন A+ পেয়েছে। পরবর্তী উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জমজ্ কন্যা সানিয়া ও সুমাইয়াদ্বয় উভয় পঞ্চম শ্রেণী ( পিএসসি) ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণী (জেএসসি) পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

বর্তমান মুন্সীগঞ্জ প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডঃ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। রোল নম্বর সুমাইয়া-১ সানিয়া-২, দুজন দুজনের প্রতিদন্ধি।‌ মানুষের মেধা বিধাতার দান, একথা সত্য। তবে ওদের মেধাবী করে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি অবদান যিনি রেখে চলেছেন, তিনি আমার প্রাণপ্রিয় সহধর্মিণী মিসেস হিরা সেলিম।

নিশ্চয়ই সে প্রশংসার দাবি রাখে। “কুমার নদীর বাঁকে” কাব্যগ্রন্থ থেকে বেশ কয়েকটি কবিতা আবৃত্তি এপার বাংলা ওপার বাংলা সাহিত্যে অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পাঠে স্থান পায়। আবৃত্তি শেষে কয়েকটি সামাজিক সংগঠন থেকে আমাকে সম্মাননা স্বারক ক্রেষ্ট প্রদান করেন। এসব ক্রেষ্ট পেয়ে আমি লেখার উৎসাহ উদ্দীপনা অনুপ্রেরণা পাই। এগুলো শুনতে এবং দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

Salim Mia ফেইসবুক ও সেলিম মিয়া. কম ওয়েবসাইটে লেখালেখির জগৎ আমার। এর মাধ্যমে তুলে ধরি আমার কথা সমাজের বাস্তবতা। আপনিও পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকতে পারেন। এছাড়াও পেজের ইনবক্সে জানাতে পারেন আপনার মতামত এবং যে কোন জানতে চাওয়া। ভাবনার অস্তিত্বে মস্তিস্কের স্বস্তি, চিন্তারাজ্যের প্রতিফলন এর সম্মেলন, এর নাম লেখালেখি। একান্ত আপন ভাবনাগ

গুলো পরিপক্কতার পরিসরে যখন মনের মাধুরি মিশিয়ে আঁকুপাঁকু করে, বাঁধা বিঘ্ন ছাড়াই ভাবনার বহি:প্রকাশ, মস্তিষ্কের রন্ধ্রে রন্ধ্রে শব্দের কথা মালা এসে ঘুরে। তখন লেখার মাধ্যমে এমনিতেই প্রস্ফুটিত হতে থাকে মৌন ফুল। তাইতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুদের সাথে নিজের ভাবনাকে ছড়িয়ে দেই কিছু লেখা লিখে।

যেখানে মনখুলে নিত্য-নৈমিত্তিক, প্রাত্যহিক, আনুষঙ্গিক, প্রাসঙ্গিক, আলোচিক সবই আলোচনা করা যায় সেখানে ভালো লাগা, মন্দ লাগা, বন্ধুত্বের পরামর্শ সবই হয় মধুময়। তাইতো এ যেনো হয়ে ওঠেছে আজ আমার কাছে অতি পছন্দের। ভালো লাগে জোছনা রাতে আড্ডা দিতে তারা ভরা রাতে আকাশের সাথে মিতালী করতে। ভালো লাগে নিজের কর্ম পুলিশ নিয়ে গর্ব করতেও।

যদিওবা কখনও কোনো পুলিশের খারাপ কিছু ঘটনা আমাকে পীড়া দেয়, তবুও খারাপটাকে সরণ করে ভাল কিছু করার ইচ্ছে জাগে আমার মনে। কর্মস্থলে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সমাজের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের জন্য কিছু করার পরে, সৌভাগ্যবান মনে করি নিজেকে।

ধন্য মনে করি দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে। সোনা ফলা মাটির দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থলের সুবাদে এলাকা, এলাকার মানুষ, বিভিন্ন এলাকার কৃষ্টি সাংস্কৃতি সামাজিক অসঙ্গতি সম্পর্কে জানতে পারা আমার লেখার সৌভাগ্য বার্তা বয়ে আনে। স্মরণে আসে একাত্তরের পঁচিশে মার্চ সর্বপ্রথম রক্ত দেয় জীবন দেয় বাংলাদেশ পুলিশ।

তাইতো এই গৌরবময় অধ্যায়ে, আমি গর্বিত আমি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হতে পেরে। আমি গর্বিত আমার কর্ম আর কর্মস্থল নিয়ে। সুখ অনুভব করি আমার সহধর্মিণী মিসেস হিরা সেলিমের প্রেম পেয়ে। আমি গর্বিত আমার মেধাবী তিন রত্ন আব্দুল্লাহ আল বাঁধন, সানিয়া, সুমাইয়া কে নিয়ে।